ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ায় পণ্যের বাজারে ‘অঘোষিত মগের মুল্লুক’: ভাউচারহীন বাণিজ্য আর বিক্রেতাদের দাপটে জিম্মি ক্রেতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া ::সিলেটের কুলাউড়া পৌরশহরসহ আশপাশের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের বাজারে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের লুব্রিকেন্ট (মবিল) এবং এলপিজি গ্যাসের বাজারে চলছে প্রকাশ্য ‘লুটতরাজ’। অধিকাংশ দোকানে নেই কোনো মূল্যতালিকা, আর পণ্য ক্রয়ের পর ভাউচার চাইলে ক্রেতাদের হতে হচ্ছে লাঞ্ছিত।

ভাউচারহীন বাণিজ্য ও লুকোচুরি:অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কুলাউড়া শহরের অধিকাংশ মোটর পার্টস ও মবিলের দোকানে কোনো ক্যাশ মেমো বা ভাউচার প্রদান করা হয় না। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকছেন। কোনো সচেতন ক্রেতা যদি পণ্যের সঠিক দাম জানতে চান বা ভাউচার দাবি করেন, তবে বিক্রেতারা চড়াও হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে “নিলে নেন না নিলে যান” টাইপ উদ্ধত আচরণ করছেন তারা। ফলে সাধারণ ক্রেতারা এক প্রকার নিরুপায় হয়েই অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
মবিল ও এলপিজির ‘আগুনে’ দাম:সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে মবিল ও এলপিজি গ্যাসের বাজারে। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানি নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে মবিল বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে চলছে লুকোচুরি। বাজারের কোনো দোকানেই দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা টাঙানোর নিয়ম থাকলেও কুলাউড়ার ব্যবসায়ীরা তা তোয়াক্কাই করছেন না।
ক্রেতাদের অসহায়ত্ব:ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “মবিলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। কেন বেশি রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে দোকানদার রাগ করেন। ভাউচার চাইলে বলেন—আমাদের এখানে ভাউচার সিস্টেম নেই।” এই চিত্র এখন কুলাউড়ার প্রায় প্রতিটি দোকানের নিত্যদিনের ঘটনা।
আইনি ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা:ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও কুলাউড়ায় প্রশাসনিক তদারকি তুলনামূলক কম বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।

কুলাউড়াবাসীর দাবি, অবিলম্বে শহরের প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ভাউচার ছাড়া পণ্য বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় এই বাজার সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুলাউড়ায় পণ্যের বাজারে ‘অঘোষিত মগের মুল্লুক’: ভাউচারহীন বাণিজ্য আর বিক্রেতাদের দাপটে জিম্মি ক্রেতা

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া ::সিলেটের কুলাউড়া পৌরশহরসহ আশপাশের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের বাজারে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের লুব্রিকেন্ট (মবিল) এবং এলপিজি গ্যাসের বাজারে চলছে প্রকাশ্য ‘লুটতরাজ’। অধিকাংশ দোকানে নেই কোনো মূল্যতালিকা, আর পণ্য ক্রয়ের পর ভাউচার চাইলে ক্রেতাদের হতে হচ্ছে লাঞ্ছিত।

ভাউচারহীন বাণিজ্য ও লুকোচুরি:অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কুলাউড়া শহরের অধিকাংশ মোটর পার্টস ও মবিলের দোকানে কোনো ক্যাশ মেমো বা ভাউচার প্রদান করা হয় না। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকছেন। কোনো সচেতন ক্রেতা যদি পণ্যের সঠিক দাম জানতে চান বা ভাউচার দাবি করেন, তবে বিক্রেতারা চড়াও হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে “নিলে নেন না নিলে যান” টাইপ উদ্ধত আচরণ করছেন তারা। ফলে সাধারণ ক্রেতারা এক প্রকার নিরুপায় হয়েই অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
মবিল ও এলপিজির ‘আগুনে’ দাম:সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে মবিল ও এলপিজি গ্যাসের বাজারে। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানি নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে মবিল বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে চলছে লুকোচুরি। বাজারের কোনো দোকানেই দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা টাঙানোর নিয়ম থাকলেও কুলাউড়ার ব্যবসায়ীরা তা তোয়াক্কাই করছেন না।
ক্রেতাদের অসহায়ত্ব:ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “মবিলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। কেন বেশি রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে দোকানদার রাগ করেন। ভাউচার চাইলে বলেন—আমাদের এখানে ভাউচার সিস্টেম নেই।” এই চিত্র এখন কুলাউড়ার প্রায় প্রতিটি দোকানের নিত্যদিনের ঘটনা।
আইনি ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা:ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও কুলাউড়ায় প্রশাসনিক তদারকি তুলনামূলক কম বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।

কুলাউড়াবাসীর দাবি, অবিলম্বে শহরের প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ভাউচার ছাড়া পণ্য বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় এই বাজার সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।