আইনজীবীদের ফি: নেই কোনো নীতিমালা, মক্কেলরা জিম্মি ‘ইচ্ছেমতো’ চার্জে
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের আদালত পাড়ায় বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘশ্বাসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনজীবীদের আকাশচুম্বী ও অনিয়ন্ত্রিত ফি। চিকিৎসা সেবায় সরকার ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নিলেও, আইনজীবীদের ফি নির্ধারণে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা তদারকি। ফলে সামর্থ্যহীন বিচারপ্রার্থীরা অনেক সময় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
সরেজমিনে হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একই মামলার জন্য একেক আইনজীবী একেক রকম ফি দাবি করছেন। অভিজ্ঞ আইনজীবীদের ফি যেখানে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত গড়ায়, সেখানে তরুণ আইনজীবীরাও ক্ষেত্রবিশেষে চড়া ফি নিচ্ছেন। কোনো কোনো সিনিয়র আইনজীবী শুধুমাত্র পরামর্শ বা সওয়াল-জওয়াবের জন্য কয়েক লাখ টাকা চার্জ করেন, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ভুক্তভোগী এক বিচারপ্রার্থী জানান, “জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় তিন বছরে আমি চারজন আইনজীবী পরিবর্তন করেছি। প্রত্যেকের ফি আলাদা, কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেন না মামলা শেষ হতে কতদিন লাগবে। আইনজীবীদের ফি নিয়ে কোনো তালিকা না থাকায় তারা ইচ্ছামতো টাকা দাবি করেন।” আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘দ্য বার কাউন্সিল অর্ডার এন্ড রুলস’-এ আইনজীবীদের পেশাগত আচরণের কথা উল্লেখ থাকলেও ফি’র কোনো নির্দিষ্ট সীমা দেওয়া নেই। ফলে এটি এখন পুরোপুরি ‘চুক্তিভিত্তিক’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবীরা মামলার গুরুত্বের চেয়ে মক্কেলের আর্থিক অবস্থা দেখে ফি নির্ধারণ করেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বলেন, “আইন পেশা কোনো ব্যবসা নয়, এটি সেবা। তবে ফি নির্দিষ্ট না থাকায় পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। একটি যৌক্তিক কাঠামো বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।” সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের দাবি, মামলা ভেদে ফি-এর একটি সহনীয় সীমা নির্ধারণ করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হোক। এতে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ যেমন সুগম হবে, তেমনি আইনি পেশায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
অন্যথায়, উচ্চ ফি-র চাপে অনেক সাধারণ মানুষ আইনি লড়াই থেকে ছিটকে পড়বেন, যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।















