দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডা: শফিকুর রহমান এমপি
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার:মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের সাথে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ গ্রাম পরিদর্শনে এলে বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তাকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং মেহমানদের সাথে তিনি দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ঈদের সময় যাত্রীরা টিকেট কিনতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দেখেছেন। স্বজনদের সাথে আনন্দ করার আগেই সাধারণ মানুষের সেই আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।”
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রী বলেছেন অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু ঢাকা ছেড়ে যাওয়া এত মানুষকে খুঁজে বের করে কীভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে? এটি মূলত জনগণের সাথে এক ধরণের ধোঁকাবাজি।”
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্বাচন শেষ হয়েছে, অনিয়ম হলেও আমরা মেনে নিয়েছি যেন দেশ অচল না হয়। তবে আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন, তবে মনে রাখবেন সারা দেশের মানুষ এখন ‘জুলাই যোদ্ধা’। তারা আপনাদের ক্ষমা করবে না।” নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবন সম্পর্কে তিনি ঘোষণা দেন যে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি সেই বাড়িতে থাকবেন না; বরং তা বিদেশি মেহমানদের সাথে আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা হবে।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মোঃ আব্দুল মান্নান, সিলেট মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা নায়েবে আমীর জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা শূরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন এবং শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, “আমরা সরকারের ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করব, কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আমরা চাই দেশে আর চাঁদাবাজি ও মানুষের ওপর জুলুম না হোক।” উল্লেখ্য, বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থান জিয়ারত করেন।















