ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে পর্যটকদের সমাগম হবে মৌলভীবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদুল ফিতরের টানা সাতদিনের ছুটি ঘিরে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজারে । ইতিমধ্যে হোটেল–রিসোর্টগুলোর বেশির ভাগই আগাম বুকিংয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। ঈদের দিন থেকে পুরো ছুটিতে চায়ের রাজধানী খ্যাত এই অঞ্চলে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা এক সপ্তাহের ছুটি। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই দীর্ঘ ছুটি। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত এই এলাকা। পর্যটকদের জন্য আছে প্রায় দেড় শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট। পর্যটনসমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলায় চলছে জোর প্রস্তুতি।

 

​জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় পাঁচ তারকা হোটেল সহ দেড় শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট রয়েছে। ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এসব প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বিশেষ ছাড়, আকর্ষণীয় প্যাকেজ ও ভিন্নধর্মী খাবারের মেনু চালু করা হয়েছে অনেক স্থানে।

​পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ চা বাগান এবং ঐতিহ্যবাহী নীলকণ্ঠ চা কেবিন, বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। এসব স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

​সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপত্তায় জোর
​স্থানীয় পর্যটন সেবা সংস্থার নেতারা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনের আশা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এখনও প্রত্যাশিত হারে অগ্রিম বুকিং হয়নি। কোথাও ১০ থেকে ২০ শতাংশ বুকিং হলেও তা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম।

​শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ জানান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

​পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় বাহন ‘চাঁদের গাড়িথ। খোলা ছাদের এসব গাড়িতে পাহাড় ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন ভ্রমণপ্রেমীরা। ঈদ উপলক্ষে এসব গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য।

​নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনও নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ট্যুরিস্ট পুলিশ ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে প্রতিটি স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

​এছাড়া জেলা পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে টহল জোরদার করবে। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নানা প্রস্তুতি ও উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে মৌলভীবাজারের পর্যটন খাত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদে পর্যটকদের সমাগম হবে মৌলভীবাজারে

আপডেট সময় : ০২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরের টানা সাতদিনের ছুটি ঘিরে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজারে । ইতিমধ্যে হোটেল–রিসোর্টগুলোর বেশির ভাগই আগাম বুকিংয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। ঈদের দিন থেকে পুরো ছুটিতে চায়ের রাজধানী খ্যাত এই অঞ্চলে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা এক সপ্তাহের ছুটি। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই দীর্ঘ ছুটি। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত এই এলাকা। পর্যটকদের জন্য আছে প্রায় দেড় শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট। পর্যটনসমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলায় চলছে জোর প্রস্তুতি।

 

​জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় পাঁচ তারকা হোটেল সহ দেড় শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট রয়েছে। ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এসব প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বিশেষ ছাড়, আকর্ষণীয় প্যাকেজ ও ভিন্নধর্মী খাবারের মেনু চালু করা হয়েছে অনেক স্থানে।

​পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ চা বাগান এবং ঐতিহ্যবাহী নীলকণ্ঠ চা কেবিন, বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। এসব স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

​সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপত্তায় জোর
​স্থানীয় পর্যটন সেবা সংস্থার নেতারা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনের আশা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এখনও প্রত্যাশিত হারে অগ্রিম বুকিং হয়নি। কোথাও ১০ থেকে ২০ শতাংশ বুকিং হলেও তা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম।

​শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ জানান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

​পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় বাহন ‘চাঁদের গাড়িথ। খোলা ছাদের এসব গাড়িতে পাহাড় ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন ভ্রমণপ্রেমীরা। ঈদ উপলক্ষে এসব গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য।

​নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনও নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ট্যুরিস্ট পুলিশ ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে প্রতিটি স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

​এছাড়া জেলা পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে টহল জোরদার করবে। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নানা প্রস্তুতি ও উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে মৌলভীবাজারের পর্যটন খাত।