সাদিয়া নোশিনের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা ২০টি ইশতিহার ঘোষণা
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪১ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মৌলভীবাজার -২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত জেলার একমাত্র নারী সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্রক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারী বিকেলে কুলাউড়ার ডাক বাংলো মাঠে পঞ্চব্রীহি ধানের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর আহবানে হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব খসরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী।
বক্তব্য রাখেন বাসদ(মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা,
মৌলভীবাজার ২ আসনের প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম ও সিপিবির মৌলভীবাজার জেলার সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান।
জনসভায় বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী সাদিয়া চৌধুরীর হাতে কাঁচি মার্কা প্রতীক তুলে দেন। সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী তার নির্বাচনী ২০টি ইশতিহার তুলে ধরে বলেন,
১.অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান, চিকিৎসা,শিক্ষা ও কাজ এসব মৌলিক মানবিক অধিকারগুলো শর্তহীন ভাবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে এবং সংবিধানে সেটা যুক্ত করতে হবে।
২.বয়স্ক, দুস্থ, অনাথ, এতিম শিশু পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়িত্ব নেওয়া। দরিদ্র সীমার নিচের সকল মানুষের জন্য সামরিক বাহিনীর রেটে পূর্ণ রেশনিং চালু করা।
৩.বেকারদের কাজের ব্যবস্থা করা। কর্মক্ষম বেকারদের ভাতা প্রদান করা।
৪.নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে সকল ধরনের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হেলথ কার্ড প্রদান ও প্রতিটি ওয়ার্ডে হেলথ সেন্টার চালু করা।
৫.রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
৬.জাতীয় বাজেটে কৃষি খাত উন্নয়নে বাজেটের ৪০% বরাদ্দ দেয়া এবং কৃষি ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের থেকে ন্যায্য দামে ফসল ক্রয় করা।
৭.সার বীজ কীটনাশক সহ কৃষি উপকরণ সময় মত সরবরাহ করা এবং ভর্তুকি প্রদান করা।
৮.আলু, পেয়াজ, মরিচসহ সকল পচনশীল সবজি সংরক্ষণের জন্য সরকারি বিশেষায়িত হিমাগার নির্মাণ ও আলুর হিমাগার ভাড়া ১০০ টাকা নির্ধারণ করা।
জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ধ্বংসকারী কীটনাশক অনুপ্রবেশ রোধ করা। কৃষির আধুনিকায়ন নতুন শিল্প কারখানা নির্মাণ করা।
৯.চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা।
১০.সকল সেক্টরের জন্য প্রতি বছর জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা। সকল শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা।
১১. শিশুশ্রম বন্ধ করা।
১২.সংসদে নারী আসনের সংখ্যা ১০০তে উন্নীত করা এবং নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা।
১৩.কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমমজুরি ও সর্বক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পেশাজীবী নারীদের বেতনসহ ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা।
১৪.মাদক, জুয়া, পর্নোগ্রাফি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সিনেমা,নাটক, বিজ্ঞাপনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে নারীকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন ও তাদের সম্পর্কে অস্মানজনক উক্তি বন্ধ করা।
১৫.প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।প্রবাসে বাংলাদেশের দূতাবাস যাতে শ্রমিকদের সকল রকম সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয় ও শ্রমিক বান্ধব হয় সেটা নিশ্চিত করা।
১৬.পাহাড় ও সমতলের নো জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি মর্যাদা নিশ্চিত করা। বিভিন্ন জাতিসত্তার মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা। সাংস্কৃতিক ও কৃষ্টিগত ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র রক্ষার ব্যবস্থা করা।
১৭.বাংলাদেশ রেলওয়েতে আধুনিকায়ন করা। ডাবল লাইন চালু, লোকাল কমিউটার চালু করে নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা।
১৮.হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়ন করা । কুলাউড়ায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।
১৯.দেশীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে,একে ভিত্তি করে শিল্পকারখানা স্থাপন করা।সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা।
২০.সাম্রাজ্যেবাদী ভারত কর্তৃক সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। ভারত থেকে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা।টিপাইমুখবাঁধসহ উজানে সকল বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা।
















